11 September, 2019

গে সেক্স

প্রশ্নঃ কিছুদিন আগে ফেসবুকে আরটিভি’র ঈদের নাটক রেইনবো নিয়ে অনেক মাতামাতি হয়েছে। সমালোচনার বিষয় বস্তু ছিল এবং অনেকি বলছে  বাংলাদেশে  গে সেক্স কে সহজলভ্য করার  জন্য বা গে সেক্সে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এই নাটক প্রচার করা হয়েছে। আমি নাটকটি দেখিনি এবং গে সেক্স সম্পর্কে ভালো জানিনা। গে সেক্স সম্পর্কে আপনাদের কাছ থেকে মতামত জানতে চাচ্ছি। 

উত্তরঃ আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য এবং চলমান বিতর্কিত বিষয়ে আপনার মূল্যবান প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা আপনার প্রশ্নের সুন্দর একটি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশা-আল্লাহ।

পুরুষে পুরুষে সমকাম বা এক পুরুষ অপর পুরুষের পায়ুপথ ব্যবহারের মাধ্যমে যৌন কর্ম করাকে গে সেক্স বলে। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগনের কাছ এই শব্দ পরিচিত নয় তবে এটা সমকাম হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত। আর ইসলামে সমকাম হারাম এবং মারাত্মক গুনাহের কাজ। ইসলামের আইন অনুযায়ী রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। এমনকি বাংলাদেশের আইনেও এর কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তারপরেও বাংলাদেশের একটি কুচক্র  মহল বাংলাদেশে পায়ুকামিতাকে প্রচার ও প্রসার এবং পুরুষে পুরুষে পায়ুকামিতাকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নাটকের আশ্রয় নিয়েছে।  আর পুরোপুরিভাবে বলতে গেলে মিডিয়ার আশ্রয় নিয়েছে।

গে সেক্স বা লেসবিয়ান সেক্স এটি ধর্মীয়, সমাজ, প্রাকৃতিক ও অবৈজ্ঞানিক এবং বিকৃত যৌনাচার। এটির বৈধতা ও প্রসার লাভ করলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। একাজে যারা জড়িয়ে যাবে তাঁদের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম জন্ম নিবে না। যার ফলে আমাদের  দেশের জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে যা পশ্চিমাদের মুসলিম বিশ্বে লক্ষ বস্তু। পশ্চিমাদের মুসলিম বিশ্বের প্রধান প্রধান নিয়ন্ত্রণ বিষয়বস্তুদের মধ্যে জনসংখ্যা কমানো’র বিষয়টিও একটি।

গে সেক্স বলেন আর লেসবিয়ান সেক্স বলেন, এগুলো বিকৃত মস্তিঙ্ক লোকদের অবৈজ্ঞানিক এবং ধর্মবিরোধী বা সৃষ্টিকর্তার আদেশ দ্রোহী যৌনকর্ম। যা সর্বপ্রথম শুরু করেছিল হযরত লুত (আঃ) সম্প্রদায়ের লোকেরা। ফলে আল্লাহ তাঁদেরকে ভয়াবহ গজব দিয়ে স্বমূলে ধ্বংস করে দেন। কিন্তু আমাদের পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের শিক্ষিত কিছু ব্যক্তি বা কুচক্রের মহলের সদস্য এটিকে বিকৃতি, অবৈজ্ঞানিক,  সমাজ ও দেশের আইন বিরোধী জেনেও বাংলাদেশে  এটিকে প্রসার লাভ করার জন্য স্বাভাবিক যৌনক্রিয়া হিসেবে প্রচার করে যাচ্ছে। যে কাজটি পশু-পাখির মধ্যেও সংঘটিত হয় না সে ঘৃণ্য সংস্কৃতি বাংলাদেশের সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হচ্ছে। একেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও চিন্তা-ভাবনায় এবং কাজ-কর্মে পশুদের চাইতেও নিচে নেমে যাচ্ছে। যৌন সভ্যতায় এই মানুষরূপী দু-পা বিশিষ্ট  জানোয়ার গুলো পশুদের চাইতেও নিচে নেমে গেছে ভাবতেই বমি আসে। এই বিকৃত মস্তিঙ্ক লোকদের কবল থেকে আল্লাহ বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায়কে রক্ষা করুণ।

যে মানুষরূপী জানোয়ার সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এবং এটিকে স্বাভাবিক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এটি তৈরি করেছে এবং যারা প্রচার করেছে, সেই তোমাগোর বাবা যদি এটি স্বাভাবিক মনে করে নারীর বদলে পুরুষের সঙ্গে তোমাগোরে জন্ম দেওয়ার কাজ চালিয়ে যেতো, তাহলে তোমাগোর মতো কুলাঙ্গার বাংলাদেশে জন্ম নিতে পারতো না। এটি তোগোরে আমার শেষ কথা। 

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.